The Best Cooking Recipe by Atanur Rannaghar
Egg Paratha Recipe | এই ডিম পরোটা বানাতে মাত্র 10 মিনিট সময় লাগবে


Egg Paratha Recipe | এই ডিম পরোটা বানাতে মাত্র 10 মিনিট সময় লাগবে
- Prep Time: 5 Minute
- Cook Time: 20 Minute
- Total Time: 25 Minute
- Category: Snacks
- Method: Indian
- Cuisine: Indian
Description
সকালের জলখাবার হোক কিংবা বিকেলের টিফিন, ডিম পরোটা একটি সুস্বাদু ও পেটভরা খাবার। ময়দার পরোটার ( Egg Paratha Recipe ) সঙ্গে ডিম, পেঁয়াজ, কাঁচা লঙ্কা ও ধনেপাতার মিশ্রণ এই খাবারকে বেশ মুখরোচক করে তোলে। আর পরোটার মধ্যে চিজ যোগ করলে স্বাদ আরও বেড়ে যায়। এই রেসিপিতে একই ডো ব্যবহার করে দুটি ভিন্ন ধরনের ডিম পরোটা তৈরি করা যাবে—সাধারণ ডিম পরোটা এবং চিজ ডিম পরোটা।
Ingredients
ডিম পরোটা রেসিপি উপকরণ ( Egg Paratha Recipe Ingredients )
- ময়দা
- স্বাদমত নুন
- চিনি গুঁড়ো
- সাদা তেল
- ডিম
- কুচানো পেঁয়াজ
- কাঁচা লঙ্কা কুচি
- কুচানো ধনেপাতা
- কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো
- চিলি ফ্লেক্স
- চিজ
- অরিগান
Instructions
পরোটার ডো তৈরি করা
প্রথমে একটি বড় পাত্রে ১ কেজি ময়দা নিন। এর মধ্যে স্বাদমতো নুন এবং সামান্য গুঁড়ো চিনি দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। চাইলে সম্পূর্ণ ময়দার পরিবর্তে কিছুটা আটা মিশিয়েও এই পরোটা তৈরি করা যায়। এবার ময়দার মধ্যে ১½ চা চামচ সাদা তেল দিয়ে দিন। হাত দিয়ে তেলটি ময়দার সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে, যাতে কোনও অংশে আলাদা করে তেল জমে না থাকে। এরপর অল্প অল্প করে জল যোগ করে ময়দা মাখতে শুরু করুন। একবারে বেশি জল দেবেন না, কারণ তাতে ডো অতিরিক্ত নরম হয়ে যেতে পারে। ধীরে ধীরে জল মিশিয়ে এমন একটি ডো তৈরি করুন, যা খুব শক্তও নয়, আবার খুব নরমও নয়। ডোটি কয়েক মিনিট ধরে ভালোভাবে মেখে নিন, যাতে ময়দা একসঙ্গে মিশে মসৃণ ও নমনীয় হয়ে আসে। ডো ঠিকমতো তৈরি হলে পরোটা বেলা সহজ হবে এবং ভাজার সময় সুন্দর লেয়ার তৈরি হবে। ( Egg Paratha Recipe )

ডো বিশ্রামে রাখা
ডো তৈরি হয়ে গেলে একটি পরিষ্কার ভেজা কাপড় দিয়ে পাত্রটি ঢেকে ১০–১৫ মিনিট বিশ্রামে রাখুন। এই সময়ে ময়দা জল শুষে নেবে এবং ডো আরও নমনীয় হয়ে উঠবে। ডো বিশ্রামে রাখার সময় সেটি খোলা অবস্থায় রাখবেন না। এতে উপরের অংশ শুকিয়ে শক্ত হয়ে যেতে পারে, যা পরোটা বেলার সময় অসুবিধা তৈরি করবে। ( Egg Paratha Recipe )

ডিমের মিশ্রণ তৈরি করা
একটি চওড়া ও কিছুটা উঁচু কিনারার পাত্রে চারটি ডিম ভেঙে নিন। পাত্রটি এমন হওয়া দরকার, যাতে পরে পরোটাটি সহজেই ডিমের মিশ্রণে ডুবিয়ে নেওয়া যায়। ডিমের মধ্যে পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা লঙ্কা কুচি এবং সামান্য ধনেপাতা কুচি যোগ করুন। এরপর সামান্য কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো ও স্বাদমতো নুন দিন। চাইলে অল্প চিলি ফ্লেক্সও যোগ করতে পারেন। এবার কাঁটাচামচ বা হুইস্কের সাহায্যে সব উপকরণ ভালোভাবে ফেটিয়ে নিন। ডিমের সাদা অংশ ও কুসুম যেন একসঙ্গে মিশে যায় এবং পেঁয়াজ, লঙ্কা ও ধনেপাতা সমানভাবে মিশে যায়।

ডো থেকে লেচি তৈরি করা
বিশ্রামে রাখা ডোটি বের করে একবার হালকা করে মেখে নিন। এরপর ডোটি লম্বা করে গড়িয়ে সমান আকারের কয়েকটি ভাগে কেটে নিন। প্রতিটি ভাগ থেকে গোল লেচি তৈরি করুন। লেচিগুলো একটু বড় আকারের রাখলে পরোটা বেলার সময় সুবিধা হবে। লেচি তৈরি করার পর সঙ্গে সঙ্গে বেলবেন না। পরিষ্কার ভেজা কাপড় দিয়ে ঢেকে আরও ৫–৭ মিনিট বিশ্রামে রাখুন। এতে ডো কিছুটা শিথিল হবে এবং বেলার সময় বারবার সঙ্কুচিত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমবে। ( Egg Paratha Recipe )

পরোটার লেয়ার তৈরি করা
একটি লেচি নিয়ে প্রথমে হাত দিয়ে একটু চ্যাপ্টা করে নিন। এরপর বেলন দিয়ে লম্বাটে আকারে বেলে নিন। খুব পাতলা করার প্রয়োজন নেই; মাঝারি পুরুত্বে বেললেই হবে। বেলে নেওয়া অংশের উপর অল্প সাদা তেল ব্রাশ করে বা হাত দিয়ে ছড়িয়ে দিন। এরপর তার উপর সামান্য শুকনো ময়দা ছিটিয়ে দিন। তেল ও শুকনো ময়দার এই স্তর পরোটার মধ্যে লেয়ার তৈরি করতে সাহায্য করবে। এবার বেলে নেওয়া ময়দার অংশটি ভাঁজ করে নিন। ভাঁজ করার পদ্ধতি অনুযায়ী পরোটার ভিতরে আলাদা স্তর তৈরি হবে। ভাঁজ করা অংশটি আবার আলতো করে বেলে গোল বা লম্বাটে পরোটার আকার দিন। ( Egg Paratha Recipe ) বেলার সময় প্রয়োজন হলে সামান্য শুকনো ময়দা ব্যবহার করতে পারেন। তবে বেশি ময়দা ব্যবহার করবেন না, কারণ অতিরিক্ত শুকনো ময়দা পরোটার গায়ে লেগে থেকে ভাজার সময় পুড়ে যেতে পারে।

সাধারণ ডিম পরোটা ভাজা
একটি ফ্রাইং প্যান মাঝারি আঁচে গরম করে তাতে সামান্য সাদা তেল দিন। এবার বেলে রাখা পরোটাটি ডিমের মিশ্রণে ডুবিয়ে নিন। দুই পাশেই ডিমের মিশ্রণ ভালোভাবে লাগতে হবে। এরপর সাবধানে পরোটাটি তুলে গরম তাওয়ায় দিয়ে দিন। পরোটার উপরিভাগে পাত্রে থাকা ডিমের মিশ্রণ থেকে সামান্য পেঁয়াজ ও ধনেপাতার অংশ ছড়িয়ে দিতে পারেন, যাতে ডিমের আস্তরণ আরও ভালোভাবে তৈরি হয়। একটি দিক কিছুটা জমে এলে খুন্তি দিয়ে পরোটাটি উল্টে দিন। ( Egg Paratha Recipe ) এবার অন্য দিকটিও ভালোভাবে ভাজুন। প্রয়োজন অনুযায়ী চারপাশে সামান্য তেল দিতে পারেন, যাতে পরোটার দুই পাশ সমানভাবে সেঁকা হয়।

পরোটা ফুলে ওঠা ও মুচমুচে করা
পরোটা ভাজার সময় আঁচ মাঝারি রাখুন। আঁচ খুব বেশি হলে ডিমের বাইরের অংশ দ্রুত বাদামি হয়ে যেতে পারে, অথচ পরোটার ভিতরের স্তর ঠিকমতো রান্না নাও হতে পারে। পরোটা উল্টেপাল্টে ভাজতে থাকুন, যতক্ষণ না দুই পাশ সুন্দর সোনালি–বাদামি রং ধারণ করে। সঠিকভাবে বেলা ও ভাঁজ করা থাকলে ভাজার সময় পরোটার কিছু অংশ ফুলে উঠবে এবং ভিতরের স্তরগুলো আলাদা হবে। খুন্তি দিয়ে প্রয়োজনে পরোটার কিনারাগুলো আলতো করে চেপে দিতে পারেন, ( Egg Paratha Recipe ) যাতে সেগুলোও সমানভাবে সেঁকা হয়। তবে খুব জোরে চাপ দেবেন না, কারণ তাতে পরোটার লেয়ার চেপে বসে যেতে পারে।
চিজ ডিম পরোটা তৈরির পদ্ধতি
চিজের পুর তৈরি করা
চিজ ডিম পরোটার জন্য আগের মতোই একটি লেচি নিয়ে মাঝারি পুরুত্বে বেলে নিন। গোল বা লম্বাটে—দুই আকারেই তৈরি করা যায়। বেলে নেওয়া ময়দার উপর অল্প সাদা তেল ছড়িয়ে দিন। এরপর সামান্য শুকনো ময়দা ছিটিয়ে তার ( Egg Paratha Recipe ) উপর একটি চিজ স্লাইস রাখুন। চাইলে চিজের উপর অল্প অরিগানো ছড়িয়ে দিতে পারেন। এতে চিজের গন্ধ ও স্বাদ আরও ভালো হবে, তবে অরিগানো ব্যবহার করা সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক।

চিজ ভাঁজের ভিতরে রাখা
চিজ দেওয়ার পর ময়দার অংশটি আগের মতো ভাঁজ করে নিন, যাতে চিজটি ভিতরে থাকে। ভাঁজের কিনারাগুলো আলতো করে চেপে আটকে দিন, যাতে বেলার সময় চিজ বাইরে বেরিয়ে না আসে।
এরপর ভাঁজ করা অংশের উপর সামান্য শুকনো ময়দা ছিটিয়ে বেলন দিয়ে ধীরে ধীরে বেলে নিন। এই সময় বেশি জোরে চাপ দেবেন না। হালকা হাতে বেললে চিজ পরোটার ভিতরে সমানভাবে ছড়িয়ে যাবে এবং কিনারা ফেটে বাইরে বেরিয়ে আসবে না। পরোটাটি খুব পাতলা করে বেলবেন না। মাঝারি পুরুত্বে রাখলে ভিতরের চিজ গলে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় পাবে এবং বাইরের পরোটাও সুন্দরভাবে রান্না হবে।
চিজ ডিম পরোটা ভাজা
আগের মতোই ডিমের মিশ্রণে চিজ ভরা পরোটাটি দুই দিক থেকে ভালোভাবে ডুবিয়ে নিন। তারপর গরম তেল দেওয়া তাওয়ায় সাবধানে রেখে দিন। মাঝারি আঁচে এক দিক কিছুটা সেঁকা হলে পরোটাটি উল্টে দিন। অপর দিকটিও একইভাবে ভাজুন। প্রয়োজন হলে সামান্য ( Egg Paratha Recipe ) তেল যোগ করে দুই পাশ সোনালি–বাদামি করে নিন। চিজ ভিতরে থাকায় এই পরোটাটি ভাজার সময় একটু যত্ন নিতে হবে। আঁচ বেশি রাখলে বাইরে দ্রুত রং ধরে গেলেও ভিতরের চিজ পুরোপুরি গলতে সময় পাবে না। তাই মাঝারি আঁচে ধীরে ধীরে ভাজুন।

চিজ গলে যাওয়া পর্যন্ত রান্না করা
পরোটার দুই পাশ ভালোভাবে সেঁকা হয়ে গেলে আরও কিছুক্ষণ কম থেকে মাঝারি আঁচে রান্না করুন, যাতে ভিতরের চিজ গলে যায় এবং পরোটার স্তরের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। পরোটা ফুলে উঠতে শুরু করলে এবং দুই পাশ সুন্দর রং ধরলে বুঝবেন এটি প্রায় তৈরি।
সবশেষে তাওয়া থেকে নামিয়ে কয়েক মুহূর্ত রেখে দিন, যাতে চিজের পুর কিছুটা স্থির হয়। এরপর বাকি লেচিগুলো দিয়েও একই পদ্ধতিতে সাধারণ ডিম পরোটা অথবা চিজ ডিম পরোটা তৈরি করুন।
এইভাবেই একই ডো দিয়ে তৈরি করা যায় নরম ভিতর ও মুচমুচে বাইরের স্তরযুক্ত সাধারণ ডিম পরোটা এবং গলে যাওয়া চিজের স্বাদে ভরপুর চিজ ডিম পরোটা।







